আরএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে মহানগরীর পৃথক তিন থানায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আরএমপি সূত্র জানায়, কর্ণহার থানা পুলিশ ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ২ জন, চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন এবং কাটাখালি থানা পুলিশ ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. মোবারক হোসেন (২৩), মো. আনারুল ইসলাম (৫৩), মো. সোহাগ মাহমুদ (২৪) ও মো. সম্রাট আলী (৩০)। মোবারক কর্ণহার থানার দর্শনপাড়া নামোপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল ওহাবের ছেলে। আনারুল একই থানার দর্শনপাড়া চৌকিপাড়া গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। সোহাগ মাহমুদ মোহনপুর থানার খয়রা গ্রামের মো. আশরাফুল দেওয়ানের ছেলে। সম্রাট আলী কাটাখালি থানার শ্যামপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. বাদশা আলীর ছেলে এবং বর্তমানে মতিহার থানার মৌলভীবুধপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত পৌনে ১১টার দিকে কর্ণহার থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তেতুলডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাঁজা বিক্রির প্রস্তুতিকালে মোবারক ও আনারুলকে আটক করা হয়। দেহ তল্লাশি করে মোবারকের কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম এবং আনারুলের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। মোবারকের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় ৩টি এবং আনারুলের বিরুদ্ধে ১টি মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চন্দ্রিমা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. রওশন আলমের নেতৃত্বে একটি টিম মুশরইল ঈদগাহ মাঠের সামনে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা বিক্রির প্রস্তুতিকালে সোহাগ মাহমুদকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তিনি ভ্রাম্যমাণভাবে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করতেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
এছাড়া একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে কাটাখালি থানার ওসি মো. সুমন কাদেরীর তত্ত্বাবধানে এসআই মো. নাদিম উদ্দিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল শ্যামপুর আবহাওয়া অফিসের সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা সম্রাট আলীকে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চারজনই মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদকদ্রব্য নিজেদের কাছে রেখেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরএমপি জানিয়েছে, নগরীতে মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।