নিলাম ছাড়াই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুড়িতে সরকারি আম!
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা প্রায় ৩০টি আমগাছের ফল প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে একই পদ্ধতিতে সরকারি গাছের আম সংগ্রহ করে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। যদিও সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন গাছের ফল নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সামনে থাকা আমগাছ থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আম সংগ্রহ করছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টি আমগাছ রয়েছে ওই চত্বরে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগ্রহ করা আম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাংলোয় নেওয়া হচ্ছে। পরে তা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর আমের মৌসুমে সরকারি ছুটির দিন বা কম জনসমাগমের সময়ে গাছ থেকে আম নামানো হয়। পরে সেগুলো ইউএনওর বাংলোয় নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় আম সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি গাছ থেকে হিমসাগর আম পাড়তে দেখা গেছে।
চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা জামিলুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা গাছগুলোতে এবার প্রচুর আম ধরেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ মণ আম উৎপাদন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি সম্পদ ব্যক্তি পর্যায়ে ভাগ করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব আম প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি তহবিলে অর্থ জমা দেওয়া উচিত ছিল। বিক্রি না করলে অন্তত এতিমখানা, মাদ্রাসা বা দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা যেত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আম পাড়ার সময় সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করতে নিরুৎসাহিত করা হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সরকারি মালিকানাধীন গাছের ফল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কোনো বিধান নেই। সাধারণত গাছে মুকুল আসার পর বা ফল পরিপক্ব হলে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ফল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দিতে হয়। সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে বণ্টনের সুযোগ নেই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, উপজেলা পরিষদের আম কখনো বিক্রি করা হয় না। এখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের মধ্যে আম বিতরণ করা হয়।
সরকারি গাছের আম নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার বিধান রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,না, এটা বিক্রি করার কথা না। বহু বছর ধরেই এভাবেই হয়ে আসছে।
ইউএনওর এই বক্তব্যের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার বক্তব্যের স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা গেছে। ফলে সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা, প্রচলিত বিধি অনুসরণ এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।