বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসবে মাতোয়ারা রাজশাহী
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজশাহী। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সব দলের সমর্থকদের অংশগ্রহণে এক বিশাল ও ব্যতিক্রমী মোটরসাইকেল র্যালি। মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকরা এদিন সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে অংশ নিয়ে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর পাঠানপাড়া মোড় থেকে র্যালিটি শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, ব্রাজিলের হলুদ-সবুজসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সিতে সজ্জিত হয়ে শত শত ফুটবলপ্রেমী র্যালিতে অংশ নেন। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ বহর নিয়ে তারা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
র্যালিটি পাঠানপাড়া মোড় থেকে শুরু হয়ে সিঅ্যান্ডবি মোড়, সাহেববাজার, আলুপট্টি, তালাইমারি, বিনোদপুর, চৌদ্দপাই ও বারোরাস্তার মোড় হয়ে রুয়েটের পেছনের গেট সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে গান, স্লোগান, ভুভুজেলার শব্দ এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজশাহী নগরী।
বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ। মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের কট্টর সমর্থকরাও এদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নাচ-গান ও স্লোগানের মাধ্যমে বিশ্বকাপ উৎসবকে উপভোগ করেন। এতে উপস্থিত সাধারণ মানুষও উৎসবের আবহে মেতে ওঠেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খেলাকে কেন্দ্র করে উগ্রতা বা বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ যৌথ র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
র্যালির অন্যতম আয়োজক ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, “ফুটবল নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি কিংবা ট্রল থাকবে, তবে তা শুধুই বিনোদনের জন্য। বিশ্বকাপের এই আনন্দ-উৎসব কোনোভাবেই যেন উগ্রতা বা অসহিষ্ণুতায় রূপ না নেয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
তবে বর্ণাঢ্য এ র্যালি আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। র্যালি শেষে ট্রাফিক পুলিশ আয়োজকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন এবং পূর্বানুমতি ছাড়া এমন আয়োজন করায় তাদের ভর্ৎসনা করেন। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা ও সম্প্রীতির আয়োজন নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির এক ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।