রাজশাহী বিভাগে সুষ্ঠু নির্বাচনে নেই বড় চ্যালেঞ্জ: বিভাগীয় কমিশনার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে রাজশাহী সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী বিভাগে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তিনি বলেন,
“নির্বাচনের জন্য আমাদের তেমন কোনো বড় চ্যালেঞ্জ এখানে নেই। এর আগেও আমরা বহু নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। টুকটাক সমস্যা থাকলেও সেগুলো আমরা সহজেই সমাধান করতে পারব।”
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
“এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। মাঠপর্যায়ে যারা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সবাই আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন। সবার মতামত ও পরামর্শ আমরা গুরুত্বসহকারে শুনেছি। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না,” বলেন তিনি।
তবে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, বিষয়টি এখনো একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “যেসব অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো উদ্ধারের জন্য আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে পরিচালিত অভিযানে আমরা বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছি। তবে যেগুলো খোয়া গেছে বা হারানো রয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করা সত্যিকার অর্থেই একটি চ্যালেঞ্জিং ইস্যু।”
ডিআইজি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
“সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করব,” বলেন তিনি।
এছাড়া নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সমন্বয় সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি এবং র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তারাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।