সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ
ভিসা সেন্টার বন্ধ, কূটনৈতিক তলব

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ।

ভিসা সেন্টার বন্ধ ও কূটনৈতিক তলবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নতুন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ভিসা নীতি ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। যদিও দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্পর্কে আস্থার সংকট গভীর হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ও কামালের রায়–পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দেশে ফেরত আনার দাবি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনায় আরও ঘি ঢেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন ভারতে অবস্থানরত সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরত আনা এবং ভারতীয় প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি, গণমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বুধবার দুপুর থেকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার রামপুরা ব্রিজ এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। সড়কে অবস্থান নেওয়ার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে। চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে একই দিন দুপুর ২টা থেকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয় এবং সেদিন যাদের ভিসা আবেদনের নির্ধারিত স্লট ছিল, তাদের পরবর্তী দিনে নতুন স্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষোভকারীরা লংমার্চ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে যাত্রা শুরু করলে উত্তর বাড্ডা এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। এর আগের দিন ঢাকার শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে দেওয়া কিছু তীব্র ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে, যা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য উদ্বেগ জানানো হয়।

এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বাংলাদেশের ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৈরি করা তথাকথিত মিথ্যা বয়ান ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানানো হয়। ভারত আরও দাবি করে, এসব ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি এবং ভারতের কাছে অর্থবহ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে তলব করাকে তারা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। তবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া মন্তব্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রহণযোগ্য নসিহত হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে সে বিষয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ গ্রহণযোগ্য নয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, যা গত দেড় দশকে অনুপস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল বাংলাদেশ, যার জবাবে ভারত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঢাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনায় রয়েছে বলেও জানায় দিল্লি। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এক সংবেদনশীল ও জটিল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজপথের আন্দোলন, রাজনৈতিক ভাষ্যের তীব্রতা এবং পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তৎপরতা যদি সমন্বিতভাবে মোকাবিলা না করা যায়, তবে এর প্রভাব বাণিজ্য, ভিসা ব্যবস্থা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন কূটনৈতিক মহলে বেশি শোনা যাচ্ছে।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ
ভিসা সেন্টার বন্ধ, কূটনৈতিক তলব
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ
ভিসা সেন্টার বন্ধ, কূটনৈতিক তলব

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ।

ভিসা সেন্টার বন্ধ ও কূটনৈতিক তলবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নতুন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ভিসা নীতি ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। যদিও দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্পর্কে আস্থার সংকট গভীর হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ও কামালের রায়–পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দেশে ফেরত আনার দাবি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনায় আরও ঘি ঢেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন ভারতে অবস্থানরত সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরত আনা এবং ভারতীয় প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি, গণমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বুধবার দুপুর থেকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার রামপুরা ব্রিজ এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। সড়কে অবস্থান নেওয়ার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে। চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে একই দিন দুপুর ২টা থেকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয় এবং সেদিন যাদের ভিসা আবেদনের নির্ধারিত স্লট ছিল, তাদের পরবর্তী দিনে নতুন স্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষোভকারীরা লংমার্চ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে যাত্রা শুরু করলে উত্তর বাড্ডা এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। এর আগের দিন ঢাকার শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে দেওয়া কিছু তীব্র ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে, যা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য উদ্বেগ জানানো হয়।

এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বাংলাদেশের ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৈরি করা তথাকথিত মিথ্যা বয়ান ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানানো হয়। ভারত আরও দাবি করে, এসব ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি এবং ভারতের কাছে অর্থবহ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে তলব করাকে তারা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। তবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া মন্তব্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রহণযোগ্য নসিহত হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে সে বিষয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ গ্রহণযোগ্য নয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, যা গত দেড় দশকে অনুপস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল বাংলাদেশ, যার জবাবে ভারত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঢাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনায় রয়েছে বলেও জানায় দিল্লি। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এক সংবেদনশীল ও জটিল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজপথের আন্দোলন, রাজনৈতিক ভাষ্যের তীব্রতা এবং পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তৎপরতা যদি সমন্বিতভাবে মোকাবিলা না করা যায়, তবে এর প্রভাব বাণিজ্য, ভিসা ব্যবস্থা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন কূটনৈতিক মহলে বেশি শোনা যাচ্ছে।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ
ভিসা সেন্টার বন্ধ, কূটনৈতিক তলব
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫