মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীপবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর
হতদরিদ্র পরিবারে ইউএনও’র অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন

পবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর

favicon
পবা প্রতিনিধি :
পবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর
ছবিতে পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি (পদ্মপুকুর) এলাকার বাসিন্দা মোসা: সান্জুয়ারা বেগম।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি (পদ্মপুকুর) এলাকার একটি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারে সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের তীব্র সংকট নিরসন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। এই মানবিক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ফলে অবহেলিত ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পানিবাহিত দুর্ভোগের অবসান ঘটল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালগাছি গ্রামের মোসা. সান্জুয়ারা বেগমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয় জন। গত আট বছর ধরে তার স্বামী মো. মোতালেব আলী গুরুতর অসুস্থ থাকায় কোনো ধরনের ভারী কাজ করতে পারেন না। বড় ছেলে শফিকুল ইসলামও শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত শ্রমিকের কাজ করতে অক্ষম। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ছোট ছেলে মিঠুন হোসেনের ওপরই পুরো সংসারের দায়িত্ব বর্তায়। তিন শতক ভিটেমাটির ওপর কোনো রকমে একটি ভাঙাচোরা ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি নলকূপ বা সরকারি কোনো সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন এই হতদরিদ্র নারী।

সান্জুয়ারা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এতদিন তাদের বাড়িতে বা আশপাশের এলাকায় কোনো টিউবওয়েল না থাকায় সুপেয় পানির জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। দূরের কোনো বাড়ি কিংবা স্থানীয় মসজিদ থেকে পানি এনে পান করতে হতো তাদের। মসজিদ বন্ধ থাকলে এই বিড়ম্বনা আরও বহুগুণ বেড়ে যেত। নিরুপায় হয়ে তিনি সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা লিখিতভাবে জানান।

তিনি আরও বলেন, “ইউএনও স্যারের কাছে গিয়ে আমার দুঃখের কথা খুলে বলি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সব শুনে আমাকে আশ্বস্ত করেন। এর মাত্র তিন দিনের মাথায় মিস্ত্রি ও টিউবওয়েলের প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে লোক পাঠিয়ে আমাদের উঠানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন এবং মেঝে পাকা করে দেন। এখন শুধু আমাদের পরিবার নয়, আশেপাশের প্রতিবেশীরাও বিশুদ্ধ পানি পানের সুযোগ পাচ্ছেন।”

অসুস্থ স্বামী মো. মোতালেব আলী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ আট বছর ধরে অসুস্থ থাকায় নিজের পরিবারের জন্য একটি নলকূপ বসানোর সামর্থ্য আমার ছিল না। দূরের মসজিদ বা অন্যের বাড়ি থেকে পানি আনতে গিয়ে আমাদের অশেষ কষ্ট হতো। ইউএনও স্যার আমাদের যে উপকার করলেন, তা মৃত্যুদিনেও ভুলব না। আমি প্রতি ওয়াক্ত নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করব।” স্থানীয় অন্য নারীরাও এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান।

শুধু এই একটিমাত্র উদ্যোগই নয়; বর্তমান ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন পবা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই জনসেবা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিজের কর্মদক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাঁর এই নিরলস ও জনবান্ধব কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের মৌলিক ও জন্মগত অধিকার। কিন্তু সমাজের কিছু হতদরিদ্র মানুষ নিজেদের সামর্থ্যের অভাবে একটি টিউবওয়েলও স্থাপন করতে পারেন না, যা সত্যিই বেদনাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে এই ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বর্তমান প্রশাসন সব সময় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের বিত্তবানদেরও এসব অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

পবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর
হতদরিদ্র পরিবারে ইউএনও’র অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০৩ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীপবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর
হতদরিদ্র পরিবারে ইউএনও’র অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন

পবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর

favicon
পবা প্রতিনিধি :
পবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর
ছবিতে পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি (পদ্মপুকুর) এলাকার বাসিন্দা মোসা: সান্জুয়ারা বেগম।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি (পদ্মপুকুর) এলাকার একটি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারে সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের তীব্র সংকট নিরসন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। এই মানবিক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ফলে অবহেলিত ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পানিবাহিত দুর্ভোগের অবসান ঘটল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালগাছি গ্রামের মোসা. সান্জুয়ারা বেগমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয় জন। গত আট বছর ধরে তার স্বামী মো. মোতালেব আলী গুরুতর অসুস্থ থাকায় কোনো ধরনের ভারী কাজ করতে পারেন না। বড় ছেলে শফিকুল ইসলামও শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত শ্রমিকের কাজ করতে অক্ষম। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ছোট ছেলে মিঠুন হোসেনের ওপরই পুরো সংসারের দায়িত্ব বর্তায়। তিন শতক ভিটেমাটির ওপর কোনো রকমে একটি ভাঙাচোরা ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি নলকূপ বা সরকারি কোনো সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন এই হতদরিদ্র নারী।

সান্জুয়ারা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এতদিন তাদের বাড়িতে বা আশপাশের এলাকায় কোনো টিউবওয়েল না থাকায় সুপেয় পানির জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। দূরের কোনো বাড়ি কিংবা স্থানীয় মসজিদ থেকে পানি এনে পান করতে হতো তাদের। মসজিদ বন্ধ থাকলে এই বিড়ম্বনা আরও বহুগুণ বেড়ে যেত। নিরুপায় হয়ে তিনি সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা লিখিতভাবে জানান।

তিনি আরও বলেন, “ইউএনও স্যারের কাছে গিয়ে আমার দুঃখের কথা খুলে বলি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সব শুনে আমাকে আশ্বস্ত করেন। এর মাত্র তিন দিনের মাথায় মিস্ত্রি ও টিউবওয়েলের প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে লোক পাঠিয়ে আমাদের উঠানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন এবং মেঝে পাকা করে দেন। এখন শুধু আমাদের পরিবার নয়, আশেপাশের প্রতিবেশীরাও বিশুদ্ধ পানি পানের সুযোগ পাচ্ছেন।”

অসুস্থ স্বামী মো. মোতালেব আলী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ আট বছর ধরে অসুস্থ থাকায় নিজের পরিবারের জন্য একটি নলকূপ বসানোর সামর্থ্য আমার ছিল না। দূরের মসজিদ বা অন্যের বাড়ি থেকে পানি আনতে গিয়ে আমাদের অশেষ কষ্ট হতো। ইউএনও স্যার আমাদের যে উপকার করলেন, তা মৃত্যুদিনেও ভুলব না। আমি প্রতি ওয়াক্ত নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করব।” স্থানীয় অন্য নারীরাও এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান।

শুধু এই একটিমাত্র উদ্যোগই নয়; বর্তমান ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন পবা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই জনসেবা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিজের কর্মদক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাঁর এই নিরলস ও জনবান্ধব কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের মৌলিক ও জন্মগত অধিকার। কিন্তু সমাজের কিছু হতদরিদ্র মানুষ নিজেদের সামর্থ্যের অভাবে একটি টিউবওয়েলও স্থাপন করতে পারেন না, যা সত্যিই বেদনাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে এই ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বর্তমান প্রশাসন সব সময় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের বিত্তবানদেরও এসব অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

পবায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর
হতদরিদ্র পরিবারে ইউএনও’র অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০৩ আগস্ট ২০২৬