সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়
হলফনামায় অঙ্কের জাদু

রাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
রাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়
হলফনামায় অঙ্কের জাদু।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কাগজে-কলমে সম্পদের হিসাব মিলাতে গিয়ে উঠে আসছে বিস্ময়কর সব তথ্য। কোথাও প্রার্থীর চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি, কোথাও আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও স্ত্রী কোটিপতি, আবার কোথাও কোটি টাকার জমি ও ভরি ভরি স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছে অস্বাভাবিক কম। এসব তথ্যে সাধারণ ভোটারদের মনে জন্ম নিচ্ছে প্রশ্ন-এই সম্পদের প্রকৃত হিসাব কি সত্যিই জানা যাবে?

রাজশাহী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনের হলফনামায় দেখা যায়, নিজে ব্যবসায়ী হলেও তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর নামে রয়েছে বিপুল অস্থাবর সম্পদ। আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে স্থায়ী আমানত, বিনিয়োগ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ। অন্যদিকে ঢাকার অভিজাত এলাকায় থাকা জমি ও বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে এমন দামে, যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে তুলনাই চলে না। একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সম্পদের হিসাব তুলনামূলক কম হলেও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক মামলার তথ্য, যা ভোটের মাঠে আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আবার গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মির শাহজাহানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভরি হিসেবে স্বর্ণের দাম দেখানো হয়েছে মাত্র কয়েক হাজার টাকা, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান।

রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক দীর্ঘদিনের সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর হলফনামা যেন সম্পদের হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিজের নামে থাকা ফ্ল্যাট ও স্বর্ণের মূল্য যেখানে খুবই কম দেখানো হয়েছে, সেখানে তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ কোটির ঘর ছুঁয়েছে। শিক্ষক পেশার স্ত্রী কাগজে-কলমে হয়ে উঠেছেন পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদশালী ব্যক্তি। একই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও আমানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের ক্ষেত্রে চিত্র আরও বিস্ময়কর। একদিকে কয়েক কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পদ, অন্যদিকে শতকোটি টাকার ব্যাংক ঋণ-এই দুইয়ের সমন্বয় ভোটারদের সামনে ভিন্ন এক বাস্তবতার ছবি তুলে ধরছে। জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ক্ষেত্রেও ভবনের মূল্য ও সম্পদের হিসাব নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা ও প্রশ্ন।

রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলনের হলফনামায় দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ব্যবসায়ী হলেও স্বর্ণ ও স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম। আর জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো-নিজে যেখানে দুই কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক, সেখানে তাঁর গৃহিণী স্ত্রী কাগজে-কলমে চার কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। অথচ স্ত্রীর আয়ের কোনো সুস্পষ্ট উৎসের উল্লেখ নেই।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হলফনামা যেন শুধু সম্পদের বিবরণ নয়, বরং প্রশ্নের এক দীর্ঘ তালিকা। প্রার্থীরা দাবি করছেন, তাঁদের দেওয়া তথ্যে কোনো অসত্য নেই এবং সব হিসাবই আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী। তবে ভোটারদের চোখে এসব হিসাব শুধু সংখ্যার খেলা নয়; এটি রাজনীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বড় পরীক্ষা। নির্বাচনের মাঠে এই হলফনামাগুলো এখন কেবল আইনি নথি নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।


রাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়
হলফনামায় অঙ্কের জাদু
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০২ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়
হলফনামায় অঙ্কের জাদু

রাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
রাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়
হলফনামায় অঙ্কের জাদু।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কাগজে-কলমে সম্পদের হিসাব মিলাতে গিয়ে উঠে আসছে বিস্ময়কর সব তথ্য। কোথাও প্রার্থীর চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি, কোথাও আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও স্ত্রী কোটিপতি, আবার কোথাও কোটি টাকার জমি ও ভরি ভরি স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছে অস্বাভাবিক কম। এসব তথ্যে সাধারণ ভোটারদের মনে জন্ম নিচ্ছে প্রশ্ন-এই সম্পদের প্রকৃত হিসাব কি সত্যিই জানা যাবে?

রাজশাহী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনের হলফনামায় দেখা যায়, নিজে ব্যবসায়ী হলেও তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর নামে রয়েছে বিপুল অস্থাবর সম্পদ। আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে স্থায়ী আমানত, বিনিয়োগ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ। অন্যদিকে ঢাকার অভিজাত এলাকায় থাকা জমি ও বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে এমন দামে, যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে তুলনাই চলে না। একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সম্পদের হিসাব তুলনামূলক কম হলেও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক মামলার তথ্য, যা ভোটের মাঠে আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আবার গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মির শাহজাহানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভরি হিসেবে স্বর্ণের দাম দেখানো হয়েছে মাত্র কয়েক হাজার টাকা, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান।

রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক দীর্ঘদিনের সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর হলফনামা যেন সম্পদের হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিজের নামে থাকা ফ্ল্যাট ও স্বর্ণের মূল্য যেখানে খুবই কম দেখানো হয়েছে, সেখানে তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ কোটির ঘর ছুঁয়েছে। শিক্ষক পেশার স্ত্রী কাগজে-কলমে হয়ে উঠেছেন পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদশালী ব্যক্তি। একই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও আমানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের ক্ষেত্রে চিত্র আরও বিস্ময়কর। একদিকে কয়েক কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পদ, অন্যদিকে শতকোটি টাকার ব্যাংক ঋণ-এই দুইয়ের সমন্বয় ভোটারদের সামনে ভিন্ন এক বাস্তবতার ছবি তুলে ধরছে। জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ক্ষেত্রেও ভবনের মূল্য ও সম্পদের হিসাব নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা ও প্রশ্ন।

রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলনের হলফনামায় দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ব্যবসায়ী হলেও স্বর্ণ ও স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম। আর জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো-নিজে যেখানে দুই কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক, সেখানে তাঁর গৃহিণী স্ত্রী কাগজে-কলমে চার কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। অথচ স্ত্রীর আয়ের কোনো সুস্পষ্ট উৎসের উল্লেখ নেই।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হলফনামা যেন শুধু সম্পদের বিবরণ নয়, বরং প্রশ্নের এক দীর্ঘ তালিকা। প্রার্থীরা দাবি করছেন, তাঁদের দেওয়া তথ্যে কোনো অসত্য নেই এবং সব হিসাবই আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী। তবে ভোটারদের চোখে এসব হিসাব শুধু সংখ্যার খেলা নয়; এটি রাজনীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বড় পরীক্ষা। নির্বাচনের মাঠে এই হলফনামাগুলো এখন কেবল আইনি নথি নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।


রাজশাহীতে প্রার্থীর চেয়ে ‘ধনী’ স্ত্রী, সম্পদের হিসাবে প্রশ্নের পাহাড়
হলফনামায় অঙ্কের জাদু
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০২ জানুয়ারি ২০২৬