সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা
রাজশাহী-৩

ভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা

বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। মাঠের রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে-এই আসনে নির্বাচন আর কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি রূপ নিচ্ছে উন্নয়ন, আস্থা ও নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের এক কঠিন পরীক্ষায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে চার লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও বাস্তবতার বিচারে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। দুই দলের প্রার্থীরাই ঘরে ঘরে প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এই নেতাকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য নেতারাও প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানানোয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য এই নির্বাচনে তাদের বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজের প্রচারণায় মিলন উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বাজার, গ্রাম ও মহল্লায় নিয়মিত উপস্থিত থেকে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং দলীয় ভোটব্যাংকের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও কম সক্রিয় নন। পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করা আজাদ স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে পবা ও মোহনপুর উভয় এলাকাতেই তার একটি নিবেদিত ভোটারগোষ্ঠী রয়েছে বলে মনে করছেন জামায়াত নেতারা।

আজাদের প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। তিনি পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের পাশাপাশি সরব হয়ে উঠেছেন সাধারণ ভোটাররাও। পবা ও মোহনপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ভোটার এবার প্রতীক বা দল নয়, বরং বাস্তব উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দীর্ঘদিনের অবহেলাই ভোটারদের মূল উদ্বেগ।

বড়গাছি ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইনুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের এলাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। তার ভাষায়, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেন, কিন্তু বাস্তবায়ন খুব কমই দেখা যায়।

মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার দিনমজুর রহিম আলীও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বহু এমপি-মন্ত্রী এলেও তাদের জীবনে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এবার তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি সত্যিকার অর্থে এলাকার উন্নয়ন করবেন।

প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুরের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং তার দলের ঘোষিত ইশতেহারের পাশাপাশি পবা-মোহনপুরের জন্য তার নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, এই আসনের জনগণের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেবেন এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য সরাসরি রপ্তানির ব্যবস্থা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সব মিলিয়ে রাজশাহী-৩ আসনের নির্বাচন কেবল দলীয় শক্তি প্রদর্শনের লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে ভোটারদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ভাবনা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কোন প্রতিশ্রুতি ভোটারদের বেশি বিশ্বাস অর্জন করে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো রাজশাহী অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন।

ভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা
রাজশাহী-৩
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা
রাজশাহী-৩

ভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা

বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। মাঠের রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে-এই আসনে নির্বাচন আর কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি রূপ নিচ্ছে উন্নয়ন, আস্থা ও নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের এক কঠিন পরীক্ষায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে চার লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও বাস্তবতার বিচারে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। দুই দলের প্রার্থীরাই ঘরে ঘরে প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এই নেতাকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য নেতারাও প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানানোয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য এই নির্বাচনে তাদের বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজের প্রচারণায় মিলন উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বাজার, গ্রাম ও মহল্লায় নিয়মিত উপস্থিত থেকে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং দলীয় ভোটব্যাংকের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও কম সক্রিয় নন। পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করা আজাদ স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে পবা ও মোহনপুর উভয় এলাকাতেই তার একটি নিবেদিত ভোটারগোষ্ঠী রয়েছে বলে মনে করছেন জামায়াত নেতারা।

আজাদের প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। তিনি পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের পাশাপাশি সরব হয়ে উঠেছেন সাধারণ ভোটাররাও। পবা ও মোহনপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ভোটার এবার প্রতীক বা দল নয়, বরং বাস্তব উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দীর্ঘদিনের অবহেলাই ভোটারদের মূল উদ্বেগ।

বড়গাছি ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইনুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের এলাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। তার ভাষায়, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেন, কিন্তু বাস্তবায়ন খুব কমই দেখা যায়।

মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার দিনমজুর রহিম আলীও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বহু এমপি-মন্ত্রী এলেও তাদের জীবনে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এবার তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি সত্যিকার অর্থে এলাকার উন্নয়ন করবেন।

প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুরের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং তার দলের ঘোষিত ইশতেহারের পাশাপাশি পবা-মোহনপুরের জন্য তার নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, এই আসনের জনগণের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেবেন এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য সরাসরি রপ্তানির ব্যবস্থা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সব মিলিয়ে রাজশাহী-৩ আসনের নির্বাচন কেবল দলীয় শক্তি প্রদর্শনের লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে ভোটারদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ভাবনা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কোন প্রতিশ্রুতি ভোটারদের বেশি বিশ্বাস অর্জন করে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো রাজশাহী অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন।

ভোটের অঙ্কে উন্নয়ন বনাম আস্থা
রাজশাহী-৩
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬