শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদগণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
ভোটের আগে বড় শঙ্কা

গণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
গণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৭ শতাধিক ভয়ংকর অপরাধী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক পাচার ও জঙ্গিবাদসহ গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আসামিরা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পলাতক বন্দিরা নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ও পরে দেশের অন্তত ১৭টি কারাগারে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় নরসিংদী, শেরপুর ও সাতক্ষীরার কারাগারে, যেখানে কার্যত সব বন্দিই পালিয়ে যায়। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই পালান ৮২৬ জন কয়েদি। শেরপুরে পালান প্রায় ৫০০ জন এবং সাতক্ষীরায় সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে ১০৫ জন এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে হত্যা মামলার অন্তত ২০০ জন আসামি পালিয়ে যায়, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

ওই সময় দেশজুড়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৩২ জন বন্দি পালিয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছরে একাধিক অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১ হাজার ৫১৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও এখনো ৭১৩ জন ফেরারি রয়ে গেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময় কারাগারগুলো থেকে লুট হওয়া ৬৭টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে এখনো ২৭টির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল চাইনিজ রাইফেল ও শটগানের মতো মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, যা অপরাধীদের হাতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন স্বীকার করেছেন, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে কেবল সাধারণ অপরাধী নয়, বরং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আসামিরাও রয়েছে। তাঁর ভাষায়, কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করলেও এখনো বড় একটি অংশ ধরা পড়েনি, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য স্পষ্ট হুমকি।

পলাতক বন্দিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই খুন, ধর্ষণ, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনের আওতার বাইরে থাকায় নির্বাচনের সময় সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, এত সংখ্যক বিপজ্জনক অপরাধীর বাইরে থাকা শুধু নির্বাচনের জন্যই নয়, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ।

দেড় বছর পার হলেও সব পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তার কিংবা লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই অপরাধীদের অবস্থান, সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক বা অপরাধচক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

গণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
ভোটের আগে বড় শঙ্কা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদগণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
ভোটের আগে বড় শঙ্কা

গণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
গণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৭ শতাধিক ভয়ংকর অপরাধী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক পাচার ও জঙ্গিবাদসহ গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আসামিরা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পলাতক বন্দিরা নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ও পরে দেশের অন্তত ১৭টি কারাগারে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় নরসিংদী, শেরপুর ও সাতক্ষীরার কারাগারে, যেখানে কার্যত সব বন্দিই পালিয়ে যায়। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই পালান ৮২৬ জন কয়েদি। শেরপুরে পালান প্রায় ৫০০ জন এবং সাতক্ষীরায় সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে ১০৫ জন এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে হত্যা মামলার অন্তত ২০০ জন আসামি পালিয়ে যায়, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

ওই সময় দেশজুড়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৩২ জন বন্দি পালিয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছরে একাধিক অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১ হাজার ৫১৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও এখনো ৭১৩ জন ফেরারি রয়ে গেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময় কারাগারগুলো থেকে লুট হওয়া ৬৭টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে এখনো ২৭টির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল চাইনিজ রাইফেল ও শটগানের মতো মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, যা অপরাধীদের হাতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন স্বীকার করেছেন, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে কেবল সাধারণ অপরাধী নয়, বরং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আসামিরাও রয়েছে। তাঁর ভাষায়, কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করলেও এখনো বড় একটি অংশ ধরা পড়েনি, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য স্পষ্ট হুমকি।

পলাতক বন্দিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই খুন, ধর্ষণ, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনের আওতার বাইরে থাকায় নির্বাচনের সময় সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, এত সংখ্যক বিপজ্জনক অপরাধীর বাইরে থাকা শুধু নির্বাচনের জন্যই নয়, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ।

দেড় বছর পার হলেও সব পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তার কিংবা লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই অপরাধীদের অবস্থান, সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক বা অপরাধচক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

গণ-অভ্যুত্থানে পালানো ৭ শতাধিক ভয়ংকর আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
ভোটের আগে বড় শঙ্কা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬