নিয়ামতপুরে নাইটগার্ডের ওপর নৃশংস হামলা
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নাইটগার্ডকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই নাইটগার্ড বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুর ইউনিয়নের জারুল্যাপুর গ্রামের তিলকুড়ি বাজার এলাকায়। আহত ব্যক্তির নাম জামরুল সোনার। তিনি বদরপুর গ্রামের মৃত জবুল সোনারের ছেলে এবং পেশায় নাইটগার্ড।
আহত জামরুল সোনার জানান, তিনি তিলকুড়ি বাজারে সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজের বেতনের টাকা উত্তোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় মৃত সমীর মুন্নার ছেলে আব্দুল জব্বার এবং তার দুই ছেলে মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও হাফিজুর রহমান তাকে বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে কোনো পূর্ব বিরোধ বা বড় ধরনের কারণ ছাড়াই লাঠি, সুতা ও লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা তার ডান ও বাম পায়ে গুরুতর আঘাত করে এবং লাথি মেরে পাঁজরের হাড় ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে তারা গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জীবন বাঁচাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোকুলপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে মোহাম্মদ রফিক এবং বদরপুর গ্রামের রহিম সোনারের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল রানা গুরুতর আহত অবস্থায় জামরুল সোনারকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঘটনার পর আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়ামতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের নৃশংস হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।