মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোমস্পেশালপ্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি

প্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :-
প্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রশাসন ও গণমাধ্যম কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়-তারা পরস্পরের পরিপূরক। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদের সঙ্গে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের মতবিনিময় সভা এই সত্যটিই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ-গণমাধ্যম উন্নয়নের সহযোগী শক্তি-কেবল সৌজন্যমূলক বক্তব্য নয়; বরং প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি ইতিবাচক অবস্থান।

জাতীয় পর্যায়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের মধ্যে একটি যোগাযোগ ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেক সময় নীতিনির্ধারণ হয় বাস্তবতা না জেনেই। এই শূন্যতা পূরণে স্থানীয় গণমাধ্যমই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সেতুবন্ধন। রাজশাহীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার যখন এই বাস্তবতা স্বীকার করেন, তখন তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

রাজশাহী বিভাগ কৃষি, শিক্ষা ও মানবসম্পদে সম্ভাবনাময় হলেও নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ, নাগরিক সেবা এবং স্বাস্থ্যখাতে নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এসব সমস্যা শুধু স্থানীয় নয়; জাতীয় উন্নয়ন সূচকের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ, একটি বিভাগ পিছিয়ে থাকলে তার প্রভাব পড়ে জাতীয় অগ্রগতির ওপরও। এ বাস্তবতায় ড. বজলুর রশীদের বক্তব্য-সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে এগোনোর অঙ্গীকার-প্রশাসনিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।

তবে বাস্তবতা হলো, উন্নয়ন শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছায় হয় না। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ। এখানেই গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গঠনমূলক সমালোচনাকে প্রশাসনের শক্তি হিসেবে দেখার মানসিকতা জাতীয় পর্যায়েও এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই সমালোচনাকে বাধা বা বিরোধিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনারের অবস্থান এই সংস্কৃতি বদলের ইঙ্গিত দেয়।

মতবিনিময় সভায় এডিটরস ফোরামের পক্ষ থেকে স্থানীয় পত্রিকাগুলোর টিকে থাকার সংকট, সরকারি বিজ্ঞাপন নীতি, তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং সাংবাদিক নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলা হয়েছে—যা কেবল রাজশাহীর নয়, সারাদেশের গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র। জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলে এই সমস্যাগুলোর কাঠামোগত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় গণমাধ্যম দুর্বল হলে প্রশাসনের জবাবদিহিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাজশাহী অঞ্চলের প্রকৃত সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের প্রত্যাশা জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে স্থানীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় যদি এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নীতিগত আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে রাজশাহী কেবল একটি বিভাগ হিসেবেই নয়, বরং একটি উন্নয়ন মডেল হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

অতএব, রাজশাহীতে প্রশাসন ও এডিটরস ফোরামের এই সংলাপকে এককালীন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত ও কার্যকর সহযোগিতায় রূপ দেওয়া জরুরি। প্রশাসনের উন্মুক্ততা এবং গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব-এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে স্বচ্ছ, জনমুখী ও টেকসই উন্নয়নের পথ।

রাজশাহীর এই উদ্যোগ যদি জাতীয় পর্যায়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তবে সেটিই হবে এই মতবিনিময় সভার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

উল্লেখ্য, গত (১১ ডিসেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সভায় রাজশাহীর গণমাধ্যম অঙ্গনের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

সভায় এডিটরস ফোরামের সভাপতি ও সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, সহ-সভাপতি ও আমাদের রাজশাহী পত্রিকার সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহীর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, কোষাধ্যক্ষ ও সানশাইন পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ও গণধ্বনি প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াকুব সিকদার, নির্বাহী সদস্য ও সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত ও নতুন প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।


প্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোমস্পেশালপ্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি

প্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :-
প্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রশাসন ও গণমাধ্যম কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়-তারা পরস্পরের পরিপূরক। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদের সঙ্গে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের মতবিনিময় সভা এই সত্যটিই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ-গণমাধ্যম উন্নয়নের সহযোগী শক্তি-কেবল সৌজন্যমূলক বক্তব্য নয়; বরং প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি ইতিবাচক অবস্থান।

জাতীয় পর্যায়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের মধ্যে একটি যোগাযোগ ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেক সময় নীতিনির্ধারণ হয় বাস্তবতা না জেনেই। এই শূন্যতা পূরণে স্থানীয় গণমাধ্যমই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সেতুবন্ধন। রাজশাহীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার যখন এই বাস্তবতা স্বীকার করেন, তখন তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

রাজশাহী বিভাগ কৃষি, শিক্ষা ও মানবসম্পদে সম্ভাবনাময় হলেও নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ, নাগরিক সেবা এবং স্বাস্থ্যখাতে নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এসব সমস্যা শুধু স্থানীয় নয়; জাতীয় উন্নয়ন সূচকের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ, একটি বিভাগ পিছিয়ে থাকলে তার প্রভাব পড়ে জাতীয় অগ্রগতির ওপরও। এ বাস্তবতায় ড. বজলুর রশীদের বক্তব্য-সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে এগোনোর অঙ্গীকার-প্রশাসনিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।

তবে বাস্তবতা হলো, উন্নয়ন শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছায় হয় না। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ। এখানেই গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গঠনমূলক সমালোচনাকে প্রশাসনের শক্তি হিসেবে দেখার মানসিকতা জাতীয় পর্যায়েও এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই সমালোচনাকে বাধা বা বিরোধিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনারের অবস্থান এই সংস্কৃতি বদলের ইঙ্গিত দেয়।

মতবিনিময় সভায় এডিটরস ফোরামের পক্ষ থেকে স্থানীয় পত্রিকাগুলোর টিকে থাকার সংকট, সরকারি বিজ্ঞাপন নীতি, তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং সাংবাদিক নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলা হয়েছে—যা কেবল রাজশাহীর নয়, সারাদেশের গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র। জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলে এই সমস্যাগুলোর কাঠামোগত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় গণমাধ্যম দুর্বল হলে প্রশাসনের জবাবদিহিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাজশাহী অঞ্চলের প্রকৃত সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের প্রত্যাশা জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে স্থানীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় যদি এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নীতিগত আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে রাজশাহী কেবল একটি বিভাগ হিসেবেই নয়, বরং একটি উন্নয়ন মডেল হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

অতএব, রাজশাহীতে প্রশাসন ও এডিটরস ফোরামের এই সংলাপকে এককালীন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত ও কার্যকর সহযোগিতায় রূপ দেওয়া জরুরি। প্রশাসনের উন্মুক্ততা এবং গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব-এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে স্বচ্ছ, জনমুখী ও টেকসই উন্নয়নের পথ।

রাজশাহীর এই উদ্যোগ যদি জাতীয় পর্যায়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তবে সেটিই হবে এই মতবিনিময় সভার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

উল্লেখ্য, গত (১১ ডিসেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সভায় রাজশাহীর গণমাধ্যম অঙ্গনের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

সভায় এডিটরস ফোরামের সভাপতি ও সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, সহ-সভাপতি ও আমাদের রাজশাহী পত্রিকার সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহীর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, কোষাধ্যক্ষ ও সানশাইন পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ও গণধ্বনি প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াকুব সিকদার, নির্বাহী সদস্য ও সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত ও নতুন প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।


প্রশাসন–গণমাধ্যম অংশীদারিত্বই রাজশাহীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫