হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ
ডিজিটাল অপরাধ ও সাইবার নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে মানবিক, পেশাদার এবং সেবামুখী পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশনা দেন, পুলিশের সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
রোববার পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রূপ নিচ্ছে। তাই সময়োপযোগী পুলিশিং নিশ্চিত করতে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক তদন্তে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক জ্ঞান, সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে আইনানুগ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে এবং সম্মানের সঙ্গে পুলিশের সেবা পায়, সে বিষয়ে প্রতিটি কর্মকর্তাকে আন্তরিক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুরু হওয়া এই মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বেস্ট প্রবেশনার এবং বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ—এই দুই সম্মাননা অর্জন করেন।
এ ছাড়া বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। বেস্ট শ্যুটার হিসেবে সম্মাননা পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান।