চাঁপাইনবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালককে ছুরিকাঘাত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে এক অটোরিকশাচালককে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনতা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাফিন (২৫) নামের এক অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। গুরুত্বর আহত অটো চালক হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মসজিদপাড়া মহল্লার নয়ন এর ছেলে হেলাল।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে শহরের ব্যস্ততম ফুড অফিস মোড় এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আটককৃত সাফিন পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামের মুকুল হোসেনের সন্তান। অন্যদিকে, এই ন্যক্কারজনক হামলায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক হেলাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মসজিদপাড়া মহল্লার নয়নের ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে অটোরিকশাচালক হেলালকে গন্তব্যে নেওয়ার নাম করে টার্গেট করে দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে নির্জন বা সুবিধাজনক মুহূর্তে চালককে জিম্মি করে তার অটোরিকশা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। ছিনতাইয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা হেলালের পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করে। এ সময় ভুক্তভোগীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং ধাওয়া করে অভিযুক্ত সাফিনকে আটক করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনার পর দ্রুত আহত হেলালকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ছিনতাইয়ের চেষ্টার নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত চলছে। আটক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও থানায় সংরক্ষিত রেকর্ডপত্র যাচাই করে জানা গেছে, আটক সাফিনের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজশাহীর চারঘাট থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ মামলায় তিনি আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।