পাবনায় অবৈধ সার মজুত ও বেশি দামে বিক্রি
পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া বাজারে অবৈধভাবে সার মজুত ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপিসহ মোট ৩৮১ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ তদারকি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম। এছাড়া একই এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুবলিয়া বাজারের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী বৈধ লাইসেন্স বা নিবন্ধন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন—এমন সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে ‘আবু বকর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই তারা সার মজুত ও বেচাকেনা করছিল। এ অপরাধে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তাদের গুদামে থাকা অবৈধ ১৩০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, বাজারের অপর সার ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের গুদামে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা আরও ২৫১ বস্তা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার জব্দ করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা জানান, কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সারের বাজারে যেকোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা রুখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া কিংবা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।