রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › সম্পাদকীয় › সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে

সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :
সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে

একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা। সমাজের নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় কর্মকাণ্ড সাহসের সঙ্গে তুলে ধরাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রধান পেশাগত দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সত্য প্রকাশের সেই পথ রুদ্ধ করতে এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নৈতিক মনোবল গুঁড়িয়ে দিতে ভার্চুয়াল জগৎকে ব্যবহার করে সাইবার সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল। বিশেষ করে রাজশাহীর গণমাধ্যম অঙ্গনে পেশাদার সাংবাদিকদের চরিত্রহনন ও সামাজিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করার যে সংঘবদ্ধ ও নির্লজ্জ অপপ্রয়াস চলছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়-এটি মুক্ত গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি এক মারাত্মক আঘাত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম আড়ালে আত্মগোপন করে বিভিন্ন ছদ্মনামী পেজ ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ছবি ও বিকৃত মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া চরম অনৈতিক ও সুস্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক গোচরে আনা হলেও চক্রটির অপতৎপরতা বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ মেলেনি, বরং তা আরও বেপরোয়া ও আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক জ্যেষ্ঠ, নেতৃত্বস্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীদের সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ধারাবাহিক কুৎসা রটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপশক্তির সুদূরপ্রসারী ও গভীর ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করে পেশাদার সাংবাদিকদের ব্ল্যাকমেইল করা কিংবা সামাজিকভাবে অপদস্থ করার এই হীন সংস্কৃতি কোনো সুস্থ ও দায়িত্বশীল সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। সাইবার অপরাধীরা ধারণা করছে, ছদ্মনাম বা ফেক আইডির সুরক্ষায় তারা চিরকাল ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। তবে তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান আধুনিক যুগে প্রতিটি ভার্চুয়াল অপকর্মের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা অকাট্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংরক্ষিত থাকে। পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আধুনিক তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ছদ্মবেশী সাইবার সন্ত্রাসীদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা মোটেও অসম্ভব নয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ঘটনাটিকে আমলে নিয়ে আইনগত তদন্ত শুরু করার যে বার্তা দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও এখন প্রয়োজন এর দ্রুত ও দৃশ্যমান কার্যকর বাস্তবায়ন। কালক্ষেপণ না করে সাইবার ফরেনসিকের সহায়তায় নেপথ্যের মূল কারিগর, মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির স্থাপন করা জরুরি। আইনের শাসন অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশকে নির্ভীক ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের এই আপসহীন ভূমিকা আজ সময়ের অনিবার্য দাবি। অন্যথায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার এই মারাত্মক প্রবণতা গোটা সমাজব্যবস্থার জন্য এক চরম অশনিসংকেত ডেকে আনবে।

সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › সম্পাদকীয় › সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে

সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :
সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে

একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা। সমাজের নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় কর্মকাণ্ড সাহসের সঙ্গে তুলে ধরাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রধান পেশাগত দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সত্য প্রকাশের সেই পথ রুদ্ধ করতে এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নৈতিক মনোবল গুঁড়িয়ে দিতে ভার্চুয়াল জগৎকে ব্যবহার করে সাইবার সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল। বিশেষ করে রাজশাহীর গণমাধ্যম অঙ্গনে পেশাদার সাংবাদিকদের চরিত্রহনন ও সামাজিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করার যে সংঘবদ্ধ ও নির্লজ্জ অপপ্রয়াস চলছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়-এটি মুক্ত গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি এক মারাত্মক আঘাত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম আড়ালে আত্মগোপন করে বিভিন্ন ছদ্মনামী পেজ ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ছবি ও বিকৃত মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া চরম অনৈতিক ও সুস্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক গোচরে আনা হলেও চক্রটির অপতৎপরতা বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ মেলেনি, বরং তা আরও বেপরোয়া ও আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক জ্যেষ্ঠ, নেতৃত্বস্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীদের সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ধারাবাহিক কুৎসা রটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপশক্তির সুদূরপ্রসারী ও গভীর ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করে পেশাদার সাংবাদিকদের ব্ল্যাকমেইল করা কিংবা সামাজিকভাবে অপদস্থ করার এই হীন সংস্কৃতি কোনো সুস্থ ও দায়িত্বশীল সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। সাইবার অপরাধীরা ধারণা করছে, ছদ্মনাম বা ফেক আইডির সুরক্ষায় তারা চিরকাল ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। তবে তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান আধুনিক যুগে প্রতিটি ভার্চুয়াল অপকর্মের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা অকাট্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংরক্ষিত থাকে। পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আধুনিক তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ছদ্মবেশী সাইবার সন্ত্রাসীদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা মোটেও অসম্ভব নয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ঘটনাটিকে আমলে নিয়ে আইনগত তদন্ত শুরু করার যে বার্তা দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও এখন প্রয়োজন এর দ্রুত ও দৃশ্যমান কার্যকর বাস্তবায়ন। কালক্ষেপণ না করে সাইবার ফরেনসিকের সহায়তায় নেপথ্যের মূল কারিগর, মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির স্থাপন করা জরুরি। আইনের শাসন অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশকে নির্ভীক ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের এই আপসহীন ভূমিকা আজ সময়ের অনিবার্য দাবি। অন্যথায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার এই মারাত্মক প্রবণতা গোটা সমাজব্যবস্থার জন্য এক চরম অশনিসংকেত ডেকে আনবে।

সাংবাদিকদের ওপর সাইবার সন্ত্রাস: অন্ধকারের কুশীলবদের এখনই থামাতে হবে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬