মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › স্পেশাল › বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া
প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় অসন্তোষ

বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া

দেশের এভিয়েশন খাতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার’ (বিএফসিসি) বর্তমানে গভীর সংকট ও ব্যবস্থাপনাগত বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে মানসম্মত খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আরিফুল ইসলাম সাধনের কার্যকালে প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারি কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে বিদেশি এয়ারলাইন্সের লাভজনক বাণিজ্যিক চুক্তি হাতছাড়া হওয়া, প্রশাসনিক স্থবিরতা, বিতর্কিত পুনঃনিয়োগ এবং কিচেন ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এখন প্রকাশ্যে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের মতো শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর ফ্লাইটে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করত বিএফসিসি। এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হতো। কিন্তু খাদ্য পরিবেশনের মান নিয়ে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতার কারণে বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো বিএফসিসি থেকে সেবা গ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া এমন লাভজনক ক্লায়েন্ট হাতছাড়া হওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, বর্তমান জিএমের পেশাগত পটভূমি মূলত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক হওয়ায় ফ্লাইট ক্যাটারিংয়ের মতো জটিল ও সংবেদনশীল হসপিটালিটি সেক্টর পরিচালনায় তার প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রায়োগিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের মার্চে বিমানের কেন্দ্রীয় সার্ভার হ্যাকিং সংক্রান্ত স্পর্শকাতর ঘটনায় তার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও ব্যবস্থার মুখে পড়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বেশ জোরালো। বিএফসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও বাণিজ্যিক ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, সুবিধাজনক পদায়ন এবং বিশেষ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে একচ্ছত্র সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এমনকি সাবেক এক শেফ—যার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক যোগসাজশের তদন্তে প্রমাণ মিলেছিল—তাকেও সম্প্রতি বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় পুনঃনিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিএফসিসির কিচেন ও কোল্ড স্টোরেজ বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) সাথে সংগতিপূর্ণ নয় বলে খোদ কর্মীদের মাঝেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি স্টোরেজ থেকে ইলিশ মাছসহ মূল্যবান খাদ্যসামগ্রী নিয়মবহির্ভূতভাবে বাইরে পাচারের অভিযোগও রয়েছে, যা যাচাইয়ে গেটপাস ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএফসিসির নিজস্ব অবকাঠামোর লাগোয়া বাণিজ্যিক স্থান বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং সুবিধার জন্য ছেড়ে দেওয়ার নেপথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। সামনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (টার্মিনাল-৩) পুরোদমে চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাটারিং সার্ভিসে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। অথচ পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপযুক্ত খাদ্য প্রস্তুতি কাঠামো নিশ্চিত না করে বিএফসিসি যেভাবে চলছে, তাতে আসন্ন বড় কর্মযজ্ঞ সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামগ্রিক এই অচলাবস্থা নিরসনে খাদ্যপণ্য বরাদ্দ, আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো উচ্চপর্যায়ের কোনো নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সার্বিক এই অব্যবস্থাপনা এবং অভিযোগের বিষয়ে বিএফসিসির মহাব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম সাধনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া
প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় অসন্তোষ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › স্পেশাল › বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া
প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় অসন্তোষ

বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া

দেশের এভিয়েশন খাতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার’ (বিএফসিসি) বর্তমানে গভীর সংকট ও ব্যবস্থাপনাগত বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে মানসম্মত খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আরিফুল ইসলাম সাধনের কার্যকালে প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারি কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে বিদেশি এয়ারলাইন্সের লাভজনক বাণিজ্যিক চুক্তি হাতছাড়া হওয়া, প্রশাসনিক স্থবিরতা, বিতর্কিত পুনঃনিয়োগ এবং কিচেন ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এখন প্রকাশ্যে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের মতো শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর ফ্লাইটে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করত বিএফসিসি। এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হতো। কিন্তু খাদ্য পরিবেশনের মান নিয়ে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতার কারণে বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো বিএফসিসি থেকে সেবা গ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া এমন লাভজনক ক্লায়েন্ট হাতছাড়া হওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, বর্তমান জিএমের পেশাগত পটভূমি মূলত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক হওয়ায় ফ্লাইট ক্যাটারিংয়ের মতো জটিল ও সংবেদনশীল হসপিটালিটি সেক্টর পরিচালনায় তার প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রায়োগিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের মার্চে বিমানের কেন্দ্রীয় সার্ভার হ্যাকিং সংক্রান্ত স্পর্শকাতর ঘটনায় তার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও ব্যবস্থার মুখে পড়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বেশ জোরালো। বিএফসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও বাণিজ্যিক ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, সুবিধাজনক পদায়ন এবং বিশেষ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে একচ্ছত্র সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এমনকি সাবেক এক শেফ—যার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক যোগসাজশের তদন্তে প্রমাণ মিলেছিল—তাকেও সম্প্রতি বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় পুনঃনিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিএফসিসির কিচেন ও কোল্ড স্টোরেজ বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) সাথে সংগতিপূর্ণ নয় বলে খোদ কর্মীদের মাঝেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি স্টোরেজ থেকে ইলিশ মাছসহ মূল্যবান খাদ্যসামগ্রী নিয়মবহির্ভূতভাবে বাইরে পাচারের অভিযোগও রয়েছে, যা যাচাইয়ে গেটপাস ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএফসিসির নিজস্ব অবকাঠামোর লাগোয়া বাণিজ্যিক স্থান বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং সুবিধার জন্য ছেড়ে দেওয়ার নেপথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। সামনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (টার্মিনাল-৩) পুরোদমে চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাটারিং সার্ভিসে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। অথচ পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপযুক্ত খাদ্য প্রস্তুতি কাঠামো নিশ্চিত না করে বিএফসিসি যেভাবে চলছে, তাতে আসন্ন বড় কর্মযজ্ঞ সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামগ্রিক এই অচলাবস্থা নিরসনে খাদ্যপণ্য বরাদ্দ, আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো উচ্চপর্যায়ের কোনো নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সার্বিক এই অব্যবস্থাপনা এবং অভিযোগের বিষয়ে বিএফসিসির মহাব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম সাধনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিএফসিসির কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হাতছাড়া
প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় অসন্তোষ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬