শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ

একদিকে ছয় বছরের এক অবোধ শিশুর জটিল স্নায়বিক রোগের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে তীব্র পেটের পীড়ায় কাতর এক মধ্যবয়সী মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও ভিসা জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল দুই রোগীর জীবন। ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তে রাজশাহীতে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন। রোগীদের করুণ পরিস্থিতির কথা শুনে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সরাসরি হস্তক্ষেপে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মেডিকেল ভিসার ব্যবস্থা হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী পরিবার দুটিতে।

জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর উপজেলার মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব আলী মেহেদীর ছয় বছর বয়সী কন্যা মুনতাহা সিদরাতুল মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত। দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে অতি দ্রুত ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু সাধারণ প্রক্রিয়ায় সময়মতো ভিসা পাওয়া নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল শিশুটির পরিবারের। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে একবুক আশা নিয়ে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন দপ্তরে উপস্থিত হন মাহাতাব আলী। তিনি সরাসরি সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি শিশুটির জরুরি মেডিকেল ভিসা প্রাপ্তির তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।

উপকৃত পিতা মাহাতাব আলী মেহেদী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তারা। সহকারী হাইকমিশনের এমন মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপে তাঁদের মেয়ের সুচিকিৎসার পথ সুগম হয়েছে। এ সহায়তার জন্য তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একই দিন চিকিৎসার তাগিদে হাইকমিশন দপ্তরে আসেন নগরীর রাজপাড়া থানার মিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেটের মারাত্মক ব্যথায় ভুগছিলেন এবং আগের দিন সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে সহকারী হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনিও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ভিসা সহায়তা লাভ করেন। দ্রুত ভিসা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে শরিফুল ইসলাম সহকারী হাইকমিশনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করে অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা রাজশাহীতে সেবা ও মানবিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৮ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ

একদিকে ছয় বছরের এক অবোধ শিশুর জটিল স্নায়বিক রোগের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে তীব্র পেটের পীড়ায় কাতর এক মধ্যবয়সী মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও ভিসা জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল দুই রোগীর জীবন। ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তে রাজশাহীতে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন। রোগীদের করুণ পরিস্থিতির কথা শুনে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সরাসরি হস্তক্ষেপে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মেডিকেল ভিসার ব্যবস্থা হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী পরিবার দুটিতে।

জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর উপজেলার মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব আলী মেহেদীর ছয় বছর বয়সী কন্যা মুনতাহা সিদরাতুল মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত। দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে অতি দ্রুত ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু সাধারণ প্রক্রিয়ায় সময়মতো ভিসা পাওয়া নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল শিশুটির পরিবারের। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে একবুক আশা নিয়ে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন দপ্তরে উপস্থিত হন মাহাতাব আলী। তিনি সরাসরি সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি শিশুটির জরুরি মেডিকেল ভিসা প্রাপ্তির তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।

উপকৃত পিতা মাহাতাব আলী মেহেদী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তারা। সহকারী হাইকমিশনের এমন মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপে তাঁদের মেয়ের সুচিকিৎসার পথ সুগম হয়েছে। এ সহায়তার জন্য তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একই দিন চিকিৎসার তাগিদে হাইকমিশন দপ্তরে আসেন নগরীর রাজপাড়া থানার মিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেটের মারাত্মক ব্যথায় ভুগছিলেন এবং আগের দিন সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে সহকারী হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনিও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ভিসা সহায়তা লাভ করেন। দ্রুত ভিসা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে শরিফুল ইসলাম সহকারী হাইকমিশনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করে অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা রাজশাহীতে সেবা ও মানবিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের মানবিক সহায়তায় খুলল শিশু মুনতাহা ও শরিফুলের চিকিৎসার পথ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৮ আগস্ট ২০২৬