বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীগোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার

গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার
পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙন ও বন্যায় প্লাবিত গোদাগাড়ীর চরাঞ্চল; বসতভিটা হারিয়ে নৌকায় করে গৃহস্থালির মালামাল ও গবাদিপশু সরিয়ে নিয়ে অনিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন দুর্গতরা।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বসতভিটা। উপজেলার চর রুবেলপাড়া, আলাতুলি, মাঝচর, চার কোদালকাটি, আশারাদহ ও বগচরসহ সংলগ্ন গ্রামগুলোর অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো বহু পরিবারের পাশাপাশি যেসকল ঘরবাড়ি এখনো টিকে রয়েছে, সেগুলোর সিংহভাগই এখন গলা পানিতে নিমজ্জিত।

বন্যা কবলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়। প্রায় ২০ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। একদিকে প্লাবিত এলাকার কারণে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা বন্ধ, অন্যদিকে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ায় বহু পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে প্লাবিত ঘরের ভেতর খাটের ওপর কোলের সন্তানদের আঁকড়ে ধরে অনিরাপদ অবস্থায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট; নিজেদের আহারের পাশাপাশি গবাদিপশুর জীবন বাঁচানোই এখন চরবাসীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও কার্যকর সাড়া মিলছে না। ভিটেমাটি হারানো অসহায় মানুষগুলো নৌকায় করে নিজেদের অবশিষ্ট আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে বিভিন্ন ঘাটে এবং অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে খোলা আকাশের নিচে বা ঘাটের সীমিত জায়গায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও খাদ্যাভাবের মধ্যে মানবেতর সময় কাটছে তাদের। পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাওয়ায় দুর্গত চরাঞ্চলে দ্রুততম সময়ে জরুরি ত্রাণসহায়তা, সুপেয় পানি, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা এবং অস্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন অসহায় চরবাসী।

চরাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, ভাঙনে ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিলীন হয়ে সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের নজরে আসেনি। আশারাদহ এলাকা থেকেও ভাঙন সংক্রান্ত কোনো বার্তা পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের দুর্গত ২০০ পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে জরুরি শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভাঙন বা ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীগোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার

গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার
পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙন ও বন্যায় প্লাবিত গোদাগাড়ীর চরাঞ্চল; বসতভিটা হারিয়ে নৌকায় করে গৃহস্থালির মালামাল ও গবাদিপশু সরিয়ে নিয়ে অনিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন দুর্গতরা।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বসতভিটা। উপজেলার চর রুবেলপাড়া, আলাতুলি, মাঝচর, চার কোদালকাটি, আশারাদহ ও বগচরসহ সংলগ্ন গ্রামগুলোর অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো বহু পরিবারের পাশাপাশি যেসকল ঘরবাড়ি এখনো টিকে রয়েছে, সেগুলোর সিংহভাগই এখন গলা পানিতে নিমজ্জিত।

বন্যা কবলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়। প্রায় ২০ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। একদিকে প্লাবিত এলাকার কারণে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা বন্ধ, অন্যদিকে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ায় বহু পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে প্লাবিত ঘরের ভেতর খাটের ওপর কোলের সন্তানদের আঁকড়ে ধরে অনিরাপদ অবস্থায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট; নিজেদের আহারের পাশাপাশি গবাদিপশুর জীবন বাঁচানোই এখন চরবাসীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও কার্যকর সাড়া মিলছে না। ভিটেমাটি হারানো অসহায় মানুষগুলো নৌকায় করে নিজেদের অবশিষ্ট আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে বিভিন্ন ঘাটে এবং অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে খোলা আকাশের নিচে বা ঘাটের সীমিত জায়গায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও খাদ্যাভাবের মধ্যে মানবেতর সময় কাটছে তাদের। পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাওয়ায় দুর্গত চরাঞ্চলে দ্রুততম সময়ে জরুরি ত্রাণসহায়তা, সুপেয় পানি, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা এবং অস্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন অসহায় চরবাসী।

চরাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, ভাঙনে ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিলীন হয়ে সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের নজরে আসেনি। আশারাদহ এলাকা থেকেও ভাঙন সংক্রান্ত কোনো বার্তা পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের দুর্গত ২০০ পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে জরুরি শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভাঙন বা ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন ও বন্যা: নিঃস্ব সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬