সিল্ক সিটির ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও সুস্থতার আহ্বানে রাজশাহীতে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
রাজশাহীর ঐতিহাসিক রেশম ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং বিশ্বদরবারে ‘সিল্ক সিটি’র পরিচিতি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর সিল্ক সিটি ২০২৬’। শনিবার সকাল ৬টায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ফিতা কেটে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। ‘সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটি’ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
ম্যারাথনটি রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে শুরু হয়ে মহানগরীর ভদ্রা মোড়, তালাইমারী ও সাহেব বাজার প্রদক্ষিণ করে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাপ্ত হয়। পরে সেখানে বিজয়ীদের মাঝে মেডেল বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহী শুধু শান্তির শিক্ষানগরীই নয়, বিশ্বজুড়ে এর পরিচিতি ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের কারণে। সেই ‘সিল্ক সিটি’র গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত খেলাধুলা ও দৌড়চর্চার বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সিল্ক সিটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে রাজশাহী আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর জীবন বজায় রাখতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ, সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির প্রধান উপদেষ্টা মোঃ মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, এনসিসি ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ওমর শরীফ এবং রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাঈম আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির উপদেষ্টা মোসা. রিক্তা পারভিন এবং সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি।
আয়োজকরা জানান, রাজশাহীতে এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে ১০ কিলোমিটারের উন্মুক্ত রোড রেস অনুষ্ঠিত হলো। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ অপেশাদার ও পেশাদার দৌড়বিদ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের পদচারণায় পুরো নগরী এক উৎসবমুখর আমেজে রূপ নেয়। নগরবাসীকে শারীরিক সুস্থতায় উদ্বুদ্ধ করা এবং রাজশাহীর ব্র্যান্ডিংকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।