রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৮৬
চলতি বছরের বিগত নয় মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মোট ৯০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮০২ জন। বিপরীতে ডেঙ্গু জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৬ জন রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, মোট ভর্তি রোগীদের মধ্যে ছাড়পত্র পাওয়ার হার প্রায় ৮৯ শতাংশ হলেও মৃত্যু ও নতুন রোগী ভর্তির ধারাবাহিকতা সার্বিক পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক রাখছে।
হাসপাতালের ভর্তি পরিসংখ্যান বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তদের সিংহভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। মোট ৯০১ জন রোগীর মধ্যে ৮৩৩ জনই প্রাপ্তবয়স্ক, যা মোট রোগীর প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৬৮ জন, যা মোট রোগীর প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আবার পুরুষ রোগীর আধিক্য লক্ষণীয়। প্রাপ্তবয়স্ক ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে পুরুষ ৬১০ জন এবং নারী ২২৩ জন। চিকিৎসকদের মতে, পুরুষদের শতকরা ৭৩ শতাংশ ও নারীদের ২৭ শতাংশ হওয়ার পেছনে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, দীর্ঘসময় বাইরে অবস্থান এবং মশার সংস্পর্শে আসার মতো সামাজিক ও আচরণগত বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাস থেকেই পুরো বিভাগে ডেঙ্গুর তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। ওই এক মাসে বিভাগের আট জেলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬৪৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৩৬৩ জন, বগুড়ায় ১৬৫ জন, নাটোরে ৫৬ জন, পাবনায় ৪২ জন, নওগাঁয় ৪১ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং জয়পুরহাটে ৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষায়িত সেবার জন্য রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২২৮ জন, সিরাজগঞ্জ মেডিকেলে ২১৯ জন এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮ জন। রামেক হাসপাতালে আগস্টের শুরুতে ভর্তি রোগী মাত্র ৮ জন থাকলেও মাস শেষে তা বেড়ে ৫০ জনে পৌঁছায়।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে হাসপাতালটিতে নতুন করে ১৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৯৩ জন। তবে এই সাত দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। মৃতদের তালিকায় কিশোরী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’। রোগীরা জটিল পর্যায়ে বা মারাত্মক শারীরিক অবনতির পর হাসপাতালে আসার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ৮৬ জন রোগী বিশেষায়িত ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব বলে তিনি পরামর্শ দেন।