লুটপাটের পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে: খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত নীতি, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং লাগামহীন লুটপাটের ফলেই দেশে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে বলে কড়া মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির টেকসই সরবরাহ ও উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল, যার চরম মূল্য এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে ঐতিহাসিক হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
বিদ্যুৎ খাতের বিশৃঙ্খলা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির কোনো বন্দোবস্ত না করেই রাজনৈতিক বিবেচনায় একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশাল ব্যয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ সময়ে সেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার কার্যকর অবকাঠামো প্রস্তুত করা যায়নি। এগুলো ছিল মূলত রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের চক্রান্ত। বিগত সরকারের এই অবিমৃষ্যকারী সিদ্ধান্তের প্রভাবেই গভীর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যা পরবর্তীতে দায়িত্বশীল পর্যায় থেকেও যথাসময়ে সুচারুভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরে তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশেও জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একমুখী নির্ভরতা কমিয়ে সরকার জ্বালানি সরবরাহের উৎসে বহুমুখীকরণ আনয়নের জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। বিকল্প হিসেবে ব্রুনাই ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়গুলো সরাসরি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিদ্যমান সংকট উত্তরণে সরকারের গৃহীত নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন নিশ্চিত করতে শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পুরোপুরি সক্রিয় করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সম্ভাব্য অঞ্চলে নতুন কূপ খননের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন ত্বরান্বিত করার নিবিড় কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমন্বিত পদক্ষেপের ইতিবাচক ফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও টেকসই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, ঐতিহ্যবাহী আমশিল্পের বহুমুখী বিকাশ এবং উত্তরের বরেন্দ্র অঞ্চলের দীর্ঘদিনের তীব্র ভূগর্ভস্থ পানির সংকট নিরসনে সমন্বিত প্রকল্প প্রণয়ন করছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে সকালে তিনি হরিমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি প্রতীকী জনসচেতনতামূলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী এবং জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১ হাজার ২০০ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।