রাজশাহীতে মুদিদোকানি বারিউল হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার
রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে মুদিদোকানে আগুন ধরিয়ে ব্যবসায়ী বারিউল ইসলামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে মহানগরীর ভাটাপাড়া এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৫-এর একটি চৌকস দল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভাটাপাড়া এলাকার মো. ইসরাইল (৩০) এবং একই এলাকার বাসিন্দা মো. হানিফ (৪৫)। মঙ্গলবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর লক্ষ্মীপুর বাকীর মোড় এলাকায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে বারিউল ইসলামের মুদিদোকান লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। মুহূর্তেই দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা দেখতে পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বারিউল। আগুন নেভানোর চেষ্টার একপর্যায়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই বারিউল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বর্বর এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে এসআরবি-৫-এর আভিযানিক দল ভাটাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারভুক্ত দুই ঘাতক ইসরাইল ও হানিফকে তাদের নিজ এলাকা থেকে অবরুদ্ধ করে আটক করতে সক্ষম হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও নেপথ্যে থাকা অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।