রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি

রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি

শহীদদের অবমাননার অভিযোগে ক্ষোভ, বার কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর অজুহাত
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি
রাজশাহীর পর্যটন মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের ছবিসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র আঁকা রয়েছে।

​আজ ৫ আগস্ট, ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের পতনের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ হাজারও ছাত্র-জনতার অকুতোভয় আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের বিজয়। আন্দোলনের সেই রক্তঝরা স্মৃতি ও চেতনাকে জাগ্রত রাখতে সারা দেশের মতো রাজশাহীরও নানা স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে আঁকা হয়েছিল স্মৃতিগ্রাহ্য গ্রাফিতি।  

​তবে চরম অনভিপ্রেত ও ক্ষোভের বিষয় হলো, রাজশাহীর পর্যটন মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের ছবিসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র আঁকা রয়েছে। সেখানে শহীদ মুগ্ধের এক হাতে পানির বোতলের কেসসহ আঁকা হয়েছে, পাশে লেখা রয়েছে তাঁর শেষ আকুতি-‘পানি লাগবে, পানি?’  

​একটি বাণিজ্যিক মাদক বিক্রি ও সেবনের স্থানে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নামে নির্মিত এই বিতর্কিত চিত্রকে শহীদদের আত্মত্যাগের চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন সচেতন সমাজ ও আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মতে, মাদক বিক্রির স্থানে মহান শহীদদের স্মৃতি প্রদর্শন পুরো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহিমাকে ক্ষুণ্ণ করে।  

​দীর্ঘ দুই বছর ধরে মদের বারের প্রবেশদ্বারে এই গ্রাফিতি অবস্থান করলেও এটি কেন স্থানীয় প্রশাসন কিংবা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের নজরে আসেনি-তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী পর্যটন বারের ম্যানেজার রাজ্জাক বলেন, “আমরা এ ছবি আঁকিনি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতা এসে এই ছবি দেয়ালে এঁকেছে। আমরা নিজ উদ্যোগে এই ছবি মুছতে গেলেও আমাদের অপরাধ হবে বা নতুন কোনো ভুল বার্তা যাবে, সেই ভয়ে কিছু বলিনি।”

​বার কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন অজুহাত হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপ্লবী ছাত্র-জনতা।

​এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহীর এক জ্যেষ্ঠ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বার কর্তৃপক্ষের এই অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে একটি মাদক বিক্রির স্থানে শহীদদের স্মৃতি সম্বলিত গ্রাফিতি ঝুলিয়ে রেখে তাঁরা তামাশা দেখছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বীর শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো বাণিজ্যিক বার বা মাদকের আড্ডাস্থলে প্রদর্শনের বিষয় নয়। এটি স্পষ্টত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আমাদের বীর শহীদদের রক্তের সাথে চরম অবমাননা। প্রশাসনকে দ্রুত এই গ্রাফিতি সরাতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”  

​আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে রাজশাহীর সুশীল সমাজ, এনসিপি নেতৃবৃন্দ এবং ক্ষুব্ধ গণমানুষের দাবি-বিপ্লবের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে রাজশাহীর পর্যটন বারের প্রবেশদ্বার থেকে এই বিতর্কিত দেয়ালচিত্র অপসারণ করতে হবে। একই সাথে, এমন সংবেদনশীল বিষয়কে দীর্ঘদিন অবহেলা করার দায়ে বার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০৫ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › আজকের শীর্ষ সংবাদ › রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি

রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি

শহীদদের অবমাননার অভিযোগে ক্ষোভ, বার কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর অজুহাত
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি
রাজশাহীর পর্যটন মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের ছবিসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র আঁকা রয়েছে।

​আজ ৫ আগস্ট, ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের পতনের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ হাজারও ছাত্র-জনতার অকুতোভয় আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের বিজয়। আন্দোলনের সেই রক্তঝরা স্মৃতি ও চেতনাকে জাগ্রত রাখতে সারা দেশের মতো রাজশাহীরও নানা স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে আঁকা হয়েছিল স্মৃতিগ্রাহ্য গ্রাফিতি।  

​তবে চরম অনভিপ্রেত ও ক্ষোভের বিষয় হলো, রাজশাহীর পর্যটন মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের ছবিসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র আঁকা রয়েছে। সেখানে শহীদ মুগ্ধের এক হাতে পানির বোতলের কেসসহ আঁকা হয়েছে, পাশে লেখা রয়েছে তাঁর শেষ আকুতি-‘পানি লাগবে, পানি?’  

​একটি বাণিজ্যিক মাদক বিক্রি ও সেবনের স্থানে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নামে নির্মিত এই বিতর্কিত চিত্রকে শহীদদের আত্মত্যাগের চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন সচেতন সমাজ ও আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মতে, মাদক বিক্রির স্থানে মহান শহীদদের স্মৃতি প্রদর্শন পুরো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহিমাকে ক্ষুণ্ণ করে।  

​দীর্ঘ দুই বছর ধরে মদের বারের প্রবেশদ্বারে এই গ্রাফিতি অবস্থান করলেও এটি কেন স্থানীয় প্রশাসন কিংবা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের নজরে আসেনি-তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী পর্যটন বারের ম্যানেজার রাজ্জাক বলেন, “আমরা এ ছবি আঁকিনি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতা এসে এই ছবি দেয়ালে এঁকেছে। আমরা নিজ উদ্যোগে এই ছবি মুছতে গেলেও আমাদের অপরাধ হবে বা নতুন কোনো ভুল বার্তা যাবে, সেই ভয়ে কিছু বলিনি।”

​বার কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন অজুহাত হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপ্লবী ছাত্র-জনতা।

​এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহীর এক জ্যেষ্ঠ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বার কর্তৃপক্ষের এই অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে একটি মাদক বিক্রির স্থানে শহীদদের স্মৃতি সম্বলিত গ্রাফিতি ঝুলিয়ে রেখে তাঁরা তামাশা দেখছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বীর শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো বাণিজ্যিক বার বা মাদকের আড্ডাস্থলে প্রদর্শনের বিষয় নয়। এটি স্পষ্টত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আমাদের বীর শহীদদের রক্তের সাথে চরম অবমাননা। প্রশাসনকে দ্রুত এই গ্রাফিতি সরাতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”  

​আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে রাজশাহীর সুশীল সমাজ, এনসিপি নেতৃবৃন্দ এবং ক্ষুব্ধ গণমানুষের দাবি-বিপ্লবের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে রাজশাহীর পর্যটন বারের প্রবেশদ্বার থেকে এই বিতর্কিত দেয়ালচিত্র অপসারণ করতে হবে। একই সাথে, এমন সংবেদনশীল বিষয়কে দীর্ঘদিন অবহেলা করার দায়ে বার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

রাজশাহীতে মদের বারের প্রবেশদ্বারে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদের গ্রাফিতি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
০৫ আগস্ট ২০২৬