নওগাঁর মান্দায় হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চাঁদাবাজি মামলা; ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও হাফেজদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ‘ডাকাতের মোড়’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষকদের এভাবে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৈনম ইউনিয়নের মধ্য মৈনম গ্রামের হাফেজ আল-আমিন হোসেন মোল্লা মৈনম মৌজার ৩৯৭ ও ৩৯৮ খতিয়ানে ২৯ শতক জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ৬৩৯৩ নং দাগে ‘হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালক-বালিকা নূরানী ও মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ পরিচালনা করে আসছিলেন। নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১২৫৬ নম্বর দলিলমূলে তিনি জমিটি ক্রয় করেন।
এই জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মন্ডল গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৩০ মার্চ বেলাল উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক, তার দুই ছেলে হাফেজ আল-আমিন ও হাফেজ মেহেদী হাসান এবং বুলেট হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের সিমেন্টের খুঁটি ভাঙচুর এবং ৭০ হাজার টাকা মূল্যের জিআই তারের বেড়া চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে মামলার এজাহারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল পাওয়া গেছে। অভিযোগে সিমেন্টের খুঁটি ভাঙচুর ও জিআই তার চুরির কথা বলা হলেও বাস্তবে সেগুলো ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাদীর ভাই একজন বিচারক (জজ); সেই প্রভাব খাটিয়ে এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সদ্য বিদায়ী বিতর্কিত ওসি কেএম মাসুদ রানা মামলাটি রেকর্ড করেছেন।
মামলার ৩ নম্বর আসামি ও প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। তার দুই ছেলেও হাফেজ এবং শিক্ষকতায় নিয়োজিত। একজন সম্মানিত শিক্ষক ও হাফেজ পরিবারের বিরুদ্ধে এমন ‘ভিত্তিহীন’ মামলায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।
মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ আল-আমিন হোসেন মোল্লা বলেন, “আমরা বৈধভাবে জমি কিনে মাদ্রাসা পরিচালনা করছি। আমাদের প্রাপ্য জমির চেয়েও দখলে কম আছে। অথচ তারা আমাদের উচ্ছেদ করতে এবং সামাজিকভাবে হেয় করতে এই মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মান্দা থানা পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের নিকট নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হয়রানিমূলক মামলা থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিদের রেহাই দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।