বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীবাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

বাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

favicon
বাগমারা প্রতিনিধি :
বাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে লিবিয়ায় আটকে পড়া দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের বীরকুৎসা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) ও গোপিনাথপুর গ্রামের জিসান (২২) উন্নত জীবনের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। কিন্তু প্রতারক চক্রটি তাদের ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কৌশলে লিবিয়ায় পাচার করে।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা একটি সংঘবদ্ধ বাংলাদেশি মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে। সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশ্রাম থেকেও বঞ্চিত করা হয়, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অপহরণকারীরা ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ভিকটিমদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়, যা পরিবারকে আতঙ্কিত করে তোলে।

নিরুপায় হয়ে পরিবার জমি বিক্রি ও উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে চক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের একটি ব্যাংক হিসাবে পাঠায়। তবে অর্থ পাওয়ার পরও ভিকটিমদের মুক্তি না দিয়ে আরও অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে চক্রটি।

এ ঘটনায় ভিকটিমদের পরিবার বাগমারা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার ওসি জিল্লুর রহমান দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেন। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তভার পেয়ে এসআই শিহাব উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে লিবিয়াভিত্তিক চক্রের বাংলাদেশি সহযোগী ও ব্যাংক হিসাবধারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর উত্তরপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আল মামুন (৩৮), মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুল করিম (৪৭) এবং দক্ষিণহাটি মৌটুপি এলাকার সিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী পরিষ্কার বেগম (৫৫)।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও তৎপরতায় লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল চক্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে তারা ভিকটিমদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে তাদের লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বর্তমানে ভিকটিমরা দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দালাল চক্রের প্রলোভনে না পড়ে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।

বাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৬ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীবাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

বাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

favicon
বাগমারা প্রতিনিধি :
বাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে লিবিয়ায় আটকে পড়া দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের বীরকুৎসা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) ও গোপিনাথপুর গ্রামের জিসান (২২) উন্নত জীবনের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। কিন্তু প্রতারক চক্রটি তাদের ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কৌশলে লিবিয়ায় পাচার করে।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা একটি সংঘবদ্ধ বাংলাদেশি মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে। সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশ্রাম থেকেও বঞ্চিত করা হয়, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অপহরণকারীরা ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ভিকটিমদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়, যা পরিবারকে আতঙ্কিত করে তোলে।

নিরুপায় হয়ে পরিবার জমি বিক্রি ও উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে চক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের একটি ব্যাংক হিসাবে পাঠায়। তবে অর্থ পাওয়ার পরও ভিকটিমদের মুক্তি না দিয়ে আরও অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে চক্রটি।

এ ঘটনায় ভিকটিমদের পরিবার বাগমারা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার ওসি জিল্লুর রহমান দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেন। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তভার পেয়ে এসআই শিহাব উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে লিবিয়াভিত্তিক চক্রের বাংলাদেশি সহযোগী ও ব্যাংক হিসাবধারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর উত্তরপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আল মামুন (৩৮), মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুল করিম (৪৭) এবং দক্ষিণহাটি মৌটুপি এলাকার সিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী পরিষ্কার বেগম (৫৫)।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও তৎপরতায় লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল চক্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে তারা ভিকটিমদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে তাদের লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বর্তমানে ভিকটিমরা দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দালাল চক্রের প্রলোভনে না পড়ে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।

বাগমারায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
www.dailyupochar.com
২৬ এপ্রিল ২০২৬